
নিজস্ব প্রতিবেদক – মোঃ রোকন
আগামী উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগাম প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য বিভিন্ন দলীয় প্রার্থীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রূপসায় বইতে শুরু করেছে নির্বাচনি হাওয়া। লক্ষ্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন।এই নির্বাচন সামনে রেখে পুরো রমজান মাস ব্যস্ত সময় পার করার পর এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসা পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আরও বেশি নিজেকে জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।ঈদ শুভেচ্ছার আড়ালে মূলত কৌশলে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন তারা।
ঈদ শুভেচ্ছা, ঈদ উপহার প্রদানের মাধ্যমে তারা চালিয়ে নিয়েছেন নির্বাচনি প্রচারণাও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার অনলাইন প্লাটফর্ম ফেসবুকে চালিয়েছেন তৎপরতা। এই তৎপরতায় এগিয়ে সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরাও। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রূপসায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিস নিজ নিজ অবস্থান সুসংহত করতে মাঠে নেমেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে রূপসা উপজেলায় আগামী উপাজেলা নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে তিনজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও দলীয়ভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা শেখ আব্দুর রশিদ এবং খুলনা জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান রনু।অপরদিক,দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা নিয়ে মাঠে রয়েছেন রূপসা উপাজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ জাবেদ হোসেন মল্লিক। স্থানীয় পর্যায়ে উপাজেলা নির্বাচনে বিএনপির এ তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় থাকলেও অপরদিকে,
খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সাবেক তিন বারের রূপসা উপাজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান
ও খুলনা জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারন সম্পাদক
হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ যোবায়ের এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রুপসা উপজেলা শাখার আমীর
মোঃ লবিবুল ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।।
জামায়াত এই উপজেলায় একক প্রার্থী নিয়ে এগোচ্ছে। অপরদিকে, খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ যোবায়ের এবার উপাজেলা নির্বাচনে
একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, ,২০২৪ সালের ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে রূপসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এস এম হাবিবুর রহমান হাবিব নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এই দলগুলোর প্রার্থীরা নতুন করে শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুত হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতসহ খেলাফত মজলিস দলের সম্ভব্য প্রার্থীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদানের পাশাপাশি এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ, ওয়াজ মাহফিল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন।
নির্বাচনি এলাকায় বেশির ভাগ সময় ব্যয় করছেন বিভিন্ন সামাজিক কাজে। অনেক স্থানে পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে চাইছেন দোয়া। রূপসা উপজেলা আইচগাতী, শ্রীফলতলা, নৈহাটি, টিএস বাহিরদিয়া এবং ঘাটভোগ এই
৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কালীন উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী এ উপজেলায় ৬৬ টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩ শত ১ জন। যার মধ্য পুরুষ ভোটার ৮১ হাজার ১ শত ৭ জন।অপরদিকে মহিলা ভোটার ৮৪ হাজার ১ শত ৯১ জন।বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে দলীয় গ্রুপিং, অন্যদিকে ভোটারদের আস্তা অর্জন করার চেষ্টা করছেন। খুলনা জেলা বিএনপি নেতা ও সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আব্দুর রশিদ বলেন,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তৃণমূল পর্যায়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা সব সময় রেখেছি।
১৯৮৪ সালে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সিটি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতি শুরু করি।পরে রূপসা থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও খুলনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দায়িত্ব পালন ও উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ জেলা বিএনপির কমিটতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়া ১৯৯০ ১৯৯৬ এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। দুটি মিথ্যা হত্যা মামলা সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক মামলার আসামি ছিলাম । ২০০৮ এবং ২০২৬ সালে খুলনা ৪ এর বিএনপির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এবং নির্বাচনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক দায়িত্ব পালন করেছি।
এছাড়া রূপসা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে আমি নিয়োজিত আছি। স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে আমি অন্তর্ভুক্ত আছি।
বিএনপি’র কাছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে এবং দলের সিদ্ধান্ত ১০০ ভাগ পালনে বিশ্বস্ত এবং রূপসা উপজেলার ৪৫ টা ওয়ার্ড ও পাঁচটি ইউনিয়নে সর্বস্তরের নেতা কমীদের কাছে ত্যাগী, পরিচ্ছন্নতা অর্জন করেছি। লুটপাট, কোন চাঁদাবাজির সঙ্গে আমি কখনো কোনদিন জড়িত ছিলাম না এবং কর্মীবান্ধব একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দল আমাকে শতভাগ মনোনয়ন দেবে বলে আমার বিশ্বাস। অপরদিকে,খুলনা জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু বলেন,ছাত্রদলের একটি ওয়ার্ড কমিটির কর্মী হিসাবে রাজনীতি শুরু করি। সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম এখনও আছি। পাশাপাশি আমি সবসময় বিভিন্নভাবে সেবা দিয়ে এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।তাছাড়া ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ সহ খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছি। রাজনীতি করতে গিয়ে
স্বৈরাচারী হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে বারবার শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। শাররীক ও মানসিক নির্যাতনসহ মিথ্যা মামলায় বারবার কারাবরণ করছি।
নির্যাতনের কারনে জেলে থাকা অবস্থায় পিতার মৃত্যু হয়েছে। হ্যান্ডকাফ পড়া অবস্থায় প্যারোলে পিতার জানাযায় অংশগ্রহন করেছি।যে কারনে তখন আন্তর্জাতিক বিশ্বের মানবাধিকার সংস্হার পক্ষ হতে নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়।
জুলাই আন্দোলন এ ৪ আগস্ট শিববাড়ী মোড়ে আহত অবস্থায় আন্দোলন চালিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের সু-সংবাদ, দেশ ও জাতির মুক্তির আন্দোলন এ জননেতা তারেক রহমান এর একজন দায়িত্বশীল কর্মীর দায়িত্ব পালন করেছি। জীবনের মায়া ত্যাগ করে আজও রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি।ঈদ, পূজা, শীতসহ বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। আওয়ামী দুঃশাসনের সময় বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মামলা হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টাসহ তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। গরিব মানুষের দুঃখে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি।সন্ত্রাস চাঁদাবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় আপোষহীন ভাবে কাজ করি। সকল কিছু বিবেচনা করে দলা আমাকে মনোনয়ন দিবে এটা আমার বিশ্বাস। আরেক প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জাবেদ হোসেন মল্লিক বলেন,১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি।পরে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন সহ বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি।
১৯৮৭ সাল স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম।ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিগত ১৫ বছর ৮ মাস আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত অবস্থায় মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে নিজে, হামলার শিকার ও কারাবরন করেছি। পাশাপাশি পরিবারও হয়রানির শিকার হয়েছে।ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে খুলনা জেলা বিএনপির মধ্যে রূপসা উপজেলা বিএনপি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
যে হিসাবে আগামী উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুপসা উপজেলা শাখার আমীর মোঃ লবিবুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে আমরা তার অধীনে কোনো নির্বাচনের চিন্তা করিনি। এ উপজেলা থেকে আমাকে নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত। সভা-সমাবেশ থেকে জামায়াতের বিষয়ে মানুষের মাঝে ভালো বার্তা পৌঁছে দেওয়াসহ অনগ্রসর রূপসাবাসীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে যাচ্ছি।
এছাড়া আওয়ামী দুঃশাসনে যারা নির্যাতিত তাদের পাশে থাকা,অসহায় মানুষের পাশে থাকছি। সব মিলিয়ে ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।অপরদিকে, উপজেলা পরিষদের ভাইচ-চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ যোবায়ের উপাজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন,দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে উপজেলাবাসীর সমর্থন নিয়ে আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক।সেই জায়গা থেকে আশা করছি এলাকার সেবায় নিজেকে কাজে লাগানোর।
এদিকে কবে নাগাদ এই নির্বাচন হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, তা সংসদে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরই তারিখ চূড়ান্ত হবে। তবে আইনি বা প্রশাসনিক এই অনিশ্চয়তা দমাতে পারছে না প্রার্থীদের। তারা এখন কেবল হাইকমান্ড সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এব্যাপার,খুলনা জেলা বিএনপির (ভারপ্রাপ্ত) সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী মোবাইল ফোনে বলেন, দলের থেকে যে কেউ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সৎ, ত্যাগী এবং যোগ্য প্রার্থীদেরকেই দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে এবং জনসমর্থন যাচাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, যাতে মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতারা দলীয় প্রতীক পান।তিনি আরো জানান,জনপ্রিয় এবং গত ১৬ বছরে মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত স্বচ্ছ এবং মাঠের জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।