
এম মুরশীদ আলী রূপসা প্রতিনিধি :
মা/দ/ক, অনলাইন জু/য়া ও সড়কে অবৈ/ধ ট্রলির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) ঘোষণা করে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (বিপিএম-সেবা) বলেছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থানা হবে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার মূল জায়গা।
১৮ মে (সোমবার) সকালে রূপসা থানা আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে মাদ/ককে সমাজের জন্য একটি ভ/য়াবহ ক্যান্সার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে রূপসাকে দ্রুত মাদ/ক/মুক্ত করা সম্ভব হবে। আর তথ্যদাতাদের পরিচয় সবসময় সর্বোচ্চ গোপন রাখা হবে।”
পুলিশের আচরণে মানবিকতা ও সৌহার্দ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশি/য়ারি উচ্চারণ করেন যে, কোনো ব্যক্তি থানায় এসে হয়রানির শিকার হলে, কেউ ঘু/ষ দাবি করলে কিংবা মাম/লা বাণিজ্যের অপচেষ্টা চালালে তা যেন সরাসরি তাঁকে জানানো হয়। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ হলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন জু/য়া ও কিশোর গ্যা/ং বা যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কার সঙ্গে চলাফেরা করছে—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা জরুরি। জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশ সবসময় পাশে থাকবে।
সড়ক দুর্ঘ/টনা রোধে কড়া বার্তা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “প্রাণঘাতী ট্রলির কোনো বৈ/ধতা নেই। এসব ট্রলি বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘ/টনার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কে কোনোভাবেই অবৈ/ধ ট্রলি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রূপসা থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
এছাড়া আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরুর হাট, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদা/বাজি, জা/ল টাকা, ছিন/তাই কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান।
মতবিনিময় সভায় সুধীজন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, রূপসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওঃ হাবিবুল্লাহ ইমন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, বিএনপি নেতা রয়েল আজম, হুমায়ূন কবীর, ইসমাইল হোসেন, টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, সাবেক জেলা বিএনপি নেতা জিএম আসাদুজ্জামান, বিএনপি নেতা শেখ আবু সাঈদ, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিমুদ্দিন, বিএনপি নেতা বাদশা জমাদ্দার, সৈয়দ নিয়ামত আলী, কামরুল ইসলাম কচি, শামীম হাসান, মুন্না সরদার, ফিরোজ মাহমুদ, স,ম হাসিবুর রহমান, মোশাররফ শিকদার, কবির শেখ, তরিকুল ইসলাম রিপন, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন, জামায়াতে ইসলামী নেতা হাফেজ মাওঃ জাহাঙ্গীর ফকির, হাফেজ মাওঃ গোলাম রসূল, সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাইল বাবু, রনি লস্কর, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা নাঈম আহম্মেদ, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হালদার, জিএম হিরোক, শামীম মোল্যা, আবুল কাশেম, গোলাম রসূল, তামিম হাসান লিয়ন, ইমরান শেখ, জাহিদ শেখ, শামীম হাওলাদার, মিরাজুল ইসলাম মিরান প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং রূপসাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের এই মানবিক ও কঠোর পদক্ষেপসমূহকে সাধুবাদ জানান এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।