কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চরের অনাবাদি জমিতে উন্নত সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর আওতায় গঠিত কৃষক গ্রুপগুলোর মাঝে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি—লো লিফট পাম্প (এলএলপি) সেট ও ক্যানভাস পাইপ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ‘বাংলাদেশে চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান, খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মেহেদী হাসান, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর আজিজুর রহমান সরকার স্বপন এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন, সোনাহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ, কৃষক দলের আহ্বায়ক সুরুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ার হোসেন, ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব সভাপতি আনোয়ারুল হক, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এ এস খোকন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি এফ কে আশিক প্রমুখ।
উপকারভোগী সোনাহাট ইউনিয়নের গনাইরকুটি গ্রামের কৃষক আল আমিন এবং পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা গ্রামের শিল্পী ও নার্জিনা খাতুন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে জানান, চরাঞ্চলের জমিগুলো অসমান হওয়ায় পানি সেচ দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। এই আধুনিক পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি সেচ দেওয়ার অসুবিধা দূর হবে এবং তারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, “চর অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এই এলএলপি পাম্পগুলো অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে কৃষি ক্ষেত্রে চর অঞ্চলের কৃষকদের জীবন মানের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে।”
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান চরাঞ্চলের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, “চরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সেচ। এই সরকারি সহায়তা চরের কৃষকদের সময় ও খরচ কমিয়ে আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করবে।”
প্রধান অতিথি ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত এই এলাকার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করব। কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে একটি কৃষি বিপ্লব ঘটাতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাত্রা বৃদ্ধি করতে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সরওয়ার তৌহিদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলা কৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১০টি চরের উপকারভোগী তিন শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।