নিজস্ব প্রতিবেদক
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন “২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন” প্রকল্পের দুটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের দেওয়া উপহার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রায় ১,২০০ জন কর্মজীবী মায়ের সন্তানকে দিবাকালীন সেবা প্রদান করা হয়।যে দুটি ঘটনার অভিযোগ
১. ভূমি ভবন ডে-কেয়ার সেন্টার: ১৯ মে ২০২৬
অভিযোগ অনুযায়ী, এদিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন এবং চকলেট ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারির নির্দেশে শিশুদের কাছ থেকে বিতরণকৃত উপহারগুলো সংগ্রহ করে প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
২. পানি ভবন ডে-কেয়ার সেন্টার: ৬ জুলাই ২০২৬
অভিযোগ অনুযায়ী, এদিন শহীদ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জোবাইদা রহমান কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং শিশুদের উপহার প্রদান করেন। একইভাবে অতিথি চলে যাওয়ার পর শিশুদের কাছ থেকে উপহারগুলো নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “অনুষ্ঠানের দিন বাচ্চারা উপহার পেয়ে খুবই খুশি হয় পরে অতিথি চলে গেলে কর্তৃপক্ষ সেগুলো জোরপূর্বক জমা নিয়ে নেয়।” কয়েকজন বাচ্চা উপহার দিতে অশিক্ষিত জানালেও তাতে কারো মন গলেনি।
একজন সেন্টারের সাবেক কর্মী বলেন,
> “দুটি ঘটনার পরই উপর থেকে নির্দেশ আসে উপহার সামগ্রী কালেকশন করে অফিসে পাঠানোর জন্য। এ বিষয়ে লিখিত কোনো নির্দেশনা আমাদের দেখানো হয়নি।”
প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারির বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রতিবারই রিং হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও শিশু অধিকারের পরিপন্থী। উপহার সামগ্রীগুলো কেন সংগ্রহ করা হলো, কার নির্দেশে এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী—এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।