নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অবহেলিত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা বৈষম্য, অবহেলা ও অনিশ্চয়তার শিকার হয়ে আসছেন। সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা আজ কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। অর্গানোগ্রাম, প্রবিধি ও জিও (GO) জটিলতার মূলে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট দুষ্টু চক্র—বিশেষ করে সেবা কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কনসালটেন্টদের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত ও একক আধিপত্য।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানা যায়, চাকরির স্থায়ীকরণ ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বারবার দাবি জানানো হলেও নীতিনির্ধারক মহলের উদাসীনতা কাটছে না। যুগ যুগ ধরে বঞ্চনার শিকার হওয়া এসব কর্মী পিতামাতার ভরণ-পোষণ তো দূরের কথা, নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ উচ্চপদস্থ চেয়ারে বসে থাকা একটি পক্ষ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। সেবা কেন্দ্রের সার্বিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কনসালটেন্ট ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি আচরণ। যোগ্যতার তুলনায় অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়ে তাঁরা আজ সাধারণ কর্মচারীদের কষ্টের কথা শুনতে নারাজ। সাধারণ কর্মীদের অন্তরআহাজারি ও না পাওয়ার বেদনা এই চক্রের কর্ণগোচর হয় না।
জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সেবা কেন্দ্রের সঠিক বিকাশ ও কর্মচারীদের নায্য অধিকার রক্ষায় এই দুষ্টু চক্রকে অবিলম্বে প্রতিহত করার সময় এসেছে। অন্যথায় এই কাঠামোগত অব্যবস্থাপনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে না, যা সামগ্রিক সেবা কার্যক্রমকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।