ডাঃ মোঃ মুহিববুল্লাহ আল মামুন -স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। **হাম: একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগ । হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি দিয়ে শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা শিশুর মৃত্যুর কারণও হতে পারে। অথচ একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে এই রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রভাব ও সামাজিক দায়িত্ব: বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের কথা মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করে। মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদ কমিটির সদস্য কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। তাই তাদের মাধ্যমে টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিলে সাধারণ মানুষ সহজেই উদ্বুদ্ধ হয়।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যদি খুতবা, ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় আলোচনায় শিশুদের টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে টিকা দিতে আগ্রহী হবেন। তারা যদি বলেন !“সন্তানের জীবন রক্ষা করা একটি মহান দায়িত্ব এবং এটি ধর্মীয়ভাবে উৎসাহিত কাজ”—তবে এটি মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভুল ধারণা দূরীকরণে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা
অনেক সময় কিছু মানুষ টিকা নিয়ে ভুল ধারণা বা ভয় পোষণ করে থাকে। কেউ কেউ মনে করেন টিকা ক্ষতিকর বা ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ভুল ধারণা দূর করতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তারা যদি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন যে মানুষের জীবন রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য— তাহলে মানুষ আরও বেশি আস্থাশীল হবে। টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ : মসজিদ থেকে মাইকিং করে টিকাদানের তারিখ ও স্থান জানানো
জুমার খুতবায় টিকা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা
মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা সভা আয়োজন করা। টিকা গ্রহণে অনীহা দূর করতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা
সম্মিলিত উদ্যোগেই সম্ভব নিরাপদ ভবিষ্যৎ
দেশের প্রতিটি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনতে হলে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ— সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যদি মানবকল্যাণের এই কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।