এম কে পারভেজ:
"একজন মানুষ মারা গেলে আমরা শোকাহত হই, কিন্তু বেঁচে থেকেও যারা প্রতিদিন ভেতরে ভেতরে মরে যান, তাদের হাহাকার কেউ অনুধাবন করতে চায় না।" শত হতাশা, চাপা কান্না আর চরম মানবেতর জীবনের চিত্র তুলে ধরে এভাবেই নিজেদের কষ্টের কথা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত 'প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র'-এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সংগঠনের সভাপতি ড. মো. রেজাউল কবিরের নিকট আকুল আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগী কর্মীরা তাদের অমানবিক জীবনযাপনের মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেছেন। সংসারের টানাপোড়েন আর সীমাহীন আর্থিক অনটনে দিশেহারা কর্মচারীরা বলেন, "নিজের সন্তানকে একবেলা ঠিকমতো খেতে দিতে না পারার চেয়ে বড় অসহায়ত্ব একজন বাবার জন্য আর কিছু হতে পারে না। তবুও পরিবারের মায়ার বাঁধনে পড়ে চরম যন্ত্রণা সহ্য করেই আমাদের প্রতিদিন লড়াই করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।"
ভুক্তভোগীদের প্রধান দাবি—প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে কর্মরত জনবলকে তাদের নিজ নিজ যোগদানের তারিখ থেকে পূর্ণাঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের মতো যাবতীয় বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। কর্মচারীরা জানান, চাকরির ধারাবাহিকতা থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ও ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত। সময়মতো এই সুবিধা পেলে বিগত ১০ বছরে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে বেতন অনেকটাই বৃদ্ধি পেত, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে পরিবার নিয়ে কোনো মতে টিকে থাকা সম্ভব হতো।
সভাপতি ড. মো. রেজাউল কবিরকে পিতৃতুল্য অভিভাবক ও 'মানবতার ফেরিওয়ালা' উল্লেখ করে কর্মচারীরা বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। একই সাথে, যোগদানের তারিখ থেকে প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও বিগত ১০ বছরের বকেয়া ইনক্রিমেন্ট প্রদানে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিতে তারা সভাপতির কাছে জোর দাবি ও আকুল মিনতি জানান।