উজ্জ্বল মুন্সি,আমতলী ( বরগুনা) প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের হারানো কৃষি পুনরুদ্ধার ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংসন্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এ প্রকল্পের কাজও শুরু হয়। সেই প্রকল্পের আওতায় বরগুনার আমতলীতেও দুইটি খাল খননের কাজ শুরু করা হয়। খাল খনন শেষে প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যায়ের চেয়েও তিনি কম অর্থায়নে খাল খনন শেষ করে সরকারী কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা জমা দিয়েছেন। এতে করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার তাকে ডেকে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে ভুয়াসী প্রসংশা এবং ভালো কাজের উৎসাহ দিয়েছেন। একই সাথে উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ খবর আমতলীতে ছড়িয়ে পরলে প্রসংশায় ভাসছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
এ বিষয়ে আমতলীর বিশিষ্টজনেরা বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতা ও আমলারা মিলে কাজ না করে সমুদয় টাকা খেয়ে ফেলতো। আর আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ শেষে অবশিষ্ট টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন। এমনটা কেবল বর্তমান সরকারের বদৌলতেই হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি অনেক সৎ, সাহসী ন্যায় পরায়ন। এর আগে আমতলীতে এটাই দৃশ্য দেখা যায়নি। কোন কোন ইউএনও কাজ শুরু না করেও টাকা নিয়েছেন। হয়েছে একাধিক গায়েবি ব্রীজ কালভার্টও।
জানাগেছে, অতিদ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমতলী উপজেলায় দুইটি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৪ঠা এপ্রিল কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়। ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী এ খনন কাজ করেছেন। খাল খনন কাজের পুরো তদারকি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। সুন্দর ও সুচারুভাবে খাল খননের কাজ শেষ করেছেন তিনি। খাল খনন শেষে ইউএনও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারাও রোপন করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিক নির্দেশনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ মোতাবেক খাল খননের কাজ শেষ করেছি। এবং খাল খনন শেষে অবশিষ্ট টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর একটি অগ্রাধিকার প্রকাল্প। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছি। সৌন্দর্য বর্ধনে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপন করেছি। তিনি আরো বলেন, অতিদ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী আমতলী উপজেলার দুইটি খাল খননে এক কোটি ২৮ লাখ ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। নির্দেশনা মোতাবেক খাল খনন ও বৃক্ষ রোপন শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। এমন কাজের জন্য প্রধানমস্ত্রী আমাকেসহ ৮৪ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ডেকে সৌজন্য সাক্ষাত করে ভালো কাজের উৎসাহ ও ভুয়াসী প্রশাংসা করেছেন এবং উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।