পদ সৃজনের শর্ত আরোপে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মচারীরা
৯০তম বোর্ড সভায় ন্যায় ও সময়বদ্ধ সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অধীনে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ৭৪৫ জন কর্মচারীর চাকরি নিয়মিতকরণ ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে ৯০তম বোর্ড সভায় স্পষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা. তাদের অভিযোগ, ফাউন্ডেশনের ২৪ জন কর্মচারীর ক্ষেত্রে অর্গানোগ্রাম ও পদ সৃজন ছাড়াই বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও, ৭৪৫ জন কর্মচারীর ক্ষেত্রে পদ সৃজনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কর্মচারীরা বলেছেন, একই ফাউন্ডেশনের অধীনে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড কেন? ২৪ জনের ক্ষেত্রে যে সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে, তাহলে ৭৪৫ জনের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় কেন? এ বিষয়ে বোর্ডের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
কর্মচারীদের প্রধান দাবি
১. চাকরি নিয়মিতকরণ: ৭৪৫ জন কর্মচারীর চাকরি নিয়মিতকরণে ৯০তম বোর্ড সভায় সময়সীমাসমূহ সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
২. আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা: ২০১৬ সালের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী বেতন-ভাতা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা।
৩. স্বচ্ছ ব্যাখ্যা: ২৪ জন ও ৭৪৫ জন কর্মচারীর সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও শর্তাবলী স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা।
৪. সমন্বয় ও পদক্ষেপ: প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা বিধিমালা সংশোধনের বিষয় থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫. দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নির্ধারণ: ৯০তম বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নির্ধারণ করে কর্মচারীদের অবহিত করা।
৬. আর্থিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ: কর্মচারীদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা (পে-ফিক্সেশন) ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
কর্মচারীদের প্রত্যাশা:
"আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। আমরা চাই, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা দিয়ে আসা কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার আইনসম্মতভাবে নিশ্চিত করা হোক।"
প্রসঙ্গে কর্মচারীরা
প্রশ্ন ১: অর্গানোগ্রাম ও পদ সৃজন ব্যতিরেকে ফাউন্ডেশনের ২৪ জনের বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলো, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ৭৪৫ জন কর্মচারীর জন্য পদ সৃজনের শর্ত আরোপ করা হলো কেন?
কর্মচারীদের বক্তব্য: ফাউন্ডেশনের ২৪ জন কর্মচারীর ক্ষেত্রে অর্গানোগ্রাম ও পদ সৃজনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে চাকরিজিই সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে, একই ফাউন্ডেশনের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা দিয়ে আসা ৭৪৫ জন কর্মচারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত আরোপের যৌক্তিক ও আইনগত ভিত্তি কী?
প্রশ্ন ২: অর্গানোগ্রাম ও পদ সৃজন ছাড়া ফাউন্ডেশনের ২৪ জন কর্মচারীর সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলো, ৭৪৫ জনের ক্ষেত্রে পদ সৃজনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে কেন?
কর্মচারীদের বক্তব্য: ২০১৬ সালের চাকরি বিধিমালা্র তফসিলভুক্ত গ্রন্থতে পদগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত না হলেও, বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে ২৪ জন কর্মচারীর সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাহলে আইন ও বিধিমালায় স্বীকৃত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের জনবলের ক্ষেত্রে পদ সৃজনের বাধা কোথায়? একই বিধিমালা্র আলোকে ৭৪৫ জন কর্মচারীর প্রাপ্য সুবিধা বাস্তবায়নে কেন অনুরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না?
প্রশ্ন ৩: ২৪ জনের ন্যায় পরবর্তীতে ৭৪৫ জনের পদ রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলে নিয়মিত করুণ করা যেতে পারে, তবে এখন কেন বোর্ড সভায় ৭৪৫ জন কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না কেন?
কর্মচারীদের বক্তব্য: পদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে বিবেচনা হতে পারে, কিন্তু বর্তমান বিধি অনুযায়ী তাঁদের বেতন-ভাতা, ছুটি এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা অবিলম্বে নিশ্চিত করার জন্য বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। কর্মচারীদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে দীর্ঘদিনের প্রাপ্য সুবিধা আটকে রাখা ন্যায়সঙ্গত নয়।
সেবার স্বার্থে অনিশ্চয়তার অবসান জরুরি
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই কর্মীদের দাবি, ৯০তম বোর্ড সভায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কার্যকর ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
সূত্র -আজকের সংবাদ